সদ্য সংবাদ :
রাজনীতি

রাজপথেই সমাধান হবে, ফখরুলের হুঁশিয়ারি

Published : Sunday, 21 November, 2021 at 1:08 PM
স্টাফ রিপোর্টার: খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে রাজপথেই এর সমাধান হবে-সরকারকে এমন হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অবিলম্বে তাকে (খালেদা জিয়া) সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। তা না হলে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) গদিচ্যুত করা হবে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এটা আমাদের জীবণ-মরণের প্রশ্ন। আমাদের অধিকারের প্রশ্ন।


শনিবার বিকালে রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। এ সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সোমবার (আগামীকাল) ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী মহানগর, জেলা সদর ও উপজেলায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব। ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই সমাবেশ হবে।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়ার মুক্তির পর মাঠে বিএনপির এটিই (গতকালের গণঅনশন) প্রথম কর্মসূচি। দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা সদরে সকাল ৯টা থেকে সাত ঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এরই অংশ হিসাবে কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয় দলটির গণঅনশন। কর্মসূচি শুরুর নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেওয়ায় তা কার্যালয়ের সামনের সড়কে আয়োজন করা হয়। এ কারণে সড়কের এক পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একদিকে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল মোড়, অন্যদিকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত সড়কের একদিকের ফুটপাতে মাদুর বিছিয়ে নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষজন গণঅনশনে অংশ নেয়।

বিএনপির অনশনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তা রোধে পুলিশসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা সংহতি জানান। বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বিএনপি মহাসচিবকে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। এদিকে এই কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম থাকায় সিনিয়র নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে জেলার নেতারা অংশ নেওয়ায় সমালোচনা করতে দেখা যায় সিনিয়র নেতাদের। কেন্দ্রীয় এ কর্মসূচিতে টাঙ্গাইল জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, পাবনা জেলার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আরও কয়েকটি জেলার শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়। 

দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে বাংলাদেশে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব। তার যেসব জটিলতা আছে তা বিদেশে আরও এডভান্স সেন্টারে ট্রিটমেন্ট দেওয়া না হলে তাকে সুস্থ করা যাবে না। পরিবার থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য। তারা সেই সুযোগ দেয়নি। উপরন্তু পার্লামেন্টে সংসদ নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) এমন ভাষায় কথা বলেছেন যা কোনোমতে গ্রহণযোগ্য নয়।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মিথ্যাচার করেছেন আইনমন্ত্রী। ৪০১ ধারায় এই সরকারের সম্পূর্ণ অধিকার আছে এবং এটা তাদের দায়িত্ব। যে কোনো নির্দেশে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী এ দেশের মাটির সঙ্গে একেবারে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছেন। মা ও মাটি বলতে আমরা খালেদা জিয়াকে বুঝি। নেত্রীকে অবশ্যই আমাদের মুক্ত করতে হবে। সেজন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমরা প্রস্তুত আছি। আসুন সবাই মিলে শপথ গ্রহণ করি দেশনেত্রীর মুক্তি এবং তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, তার উন্নত চিকিৎসা, এ দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এটা শুধু বিএনপির দাবি নয়, এ দেশের জনগণের দাবি। তাই এই দাবি বাস্তবায়ন করতে হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। 

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা যেন না ভাবি এখানেই আমাদের দায়িত্ব শেষ। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সফল না হবো ততক্ষণ আমাদের চলার গতি থামবে না। মাঠ বলে দেবে কখন কী করতে হবে। নেতারা নির্দেশ দেওয়ার সময় নাও পেতে পারেন। সব সময় কোন জায়গায় কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন সেটা নিজের বুদ্ধি দিয়ে ঠিক করতে হবে। আর যারা সেখানকার দায়িত্বে আছেন দয়া করে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার জন্য সব সময় এলাকায় অবস্থান করবেন। আমাদের সংগ্রাম শুরু। কারণ শেখ হাসিনাকে সবক দিয়ে লাভ নেই। গণঅনশনে সংহতি জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, সংবিধানের কোন আর্টিকেলে আছে খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবে না? আমি সাক্ষী ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে আমাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে। সে সময় আমি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম। আমি জার্মানিতে এক বছর ছিলাম।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করতে দেবেন কী দেবেন না, এটাই আগামী দিনের রাজনীতিকে বিভাজন করবে। আপনি যদি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করতে দেন বাংলাদেশের রাজনীতি একদিকে যাবে। আর যদি চিকিৎসা করতে না দেন তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরেকদিকে যাবে। 

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, খালেদা জিয়া এমন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি দলমত-নির্বিশেষে সবার কাছে স্মরণীয় ও বরণীয়। শুধু তা-ই নয়, তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি দলের প্রধান। আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। কারণ তিনি দেশের সাধারণ কোনো নাগরিক নন।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপিকে আরও কর্মসূচি দেওয়ার অনুরোধ জানান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিতে সমর্থন থাকবে। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও আমিরুল ইসলাম আলীমের পরিচালনায় গণঅনশনে আরও বক্তব্য দেন-স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্যামা ওবায়েদ, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শিরিন সুলতানা, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল প্রমুখ। 

গণঅনশনের কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের শরিক দলের নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন-জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, আবদুল করীম আব্বাসী, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকিব, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ।

একাত্মতা জানিয়ে পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন-সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত মাহমুদ, শত নাগরিকের আবদুল হাই শিকদার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ। এছাড়া গণঅনশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ৭৬ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থাবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।

খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে রেজা-নূর : শনিবার দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। এ সময় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূর বলেন, প্রতিহিংসা থেকে যেন একজন মানুষকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না করি। আইনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে সুচিকিৎসার সুযোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশা করি। এ সময় খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে বিএনপির সব কর্মসূচিতে সমর্থনের কথাও জানান নূর।


এবিনিউজ টোয়েন্টিফোর বিডিডটকম/এম.এম







সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: বরুণ ভৌমিক নয়ন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের, ঢাকা অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮, চট্টগ্রাম অফিস- আবাসিক সম্পাদক: জাহিদুল করিম কচি, নাসিমন ভবন (দ্বিতীয় তলা) ১২১, নূর আহমেদ রোড, চট্টগ্রাম ফোন: ০৩১-২৫৫৭৫৪২ হটলাইন: ০১৭১১-৩০৭১৭১, E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com, Developed by i2soft Technology Ltd.
Close