সদ্য সংবাদ :
বিনোদন

জলবায়ুর পরিবর্তনে বদলে যাবে মানুষের জীবন যাপন

Published : Sunday, 1 January, 2023 at 7:05 PM
মিঠুন সরকার: জলবায়ুর এই পরিবর্তনে পানির সঙ্কট তীব্র আকারে দেখা দিবে। খাদ্য উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়বে। বিপজ্জনক মাত্রায় কোনো কোনো অঞ্চল গরম হয়ে পড়বে। সমুদ্রের পানি বেড়ে প্লাবিত হবে বহু এলাকা। ফলে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে সে সব জায়গা।
অতিরিক্ত গরমের কারণে আগের তুলনায় বৃষ্টি কম হবে। আবার যখন হবে তখন খুব ভারি বৃষ্টি এবং ঝড়ের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকবে। ফলে প্রচুর মানুষের জীবন এবং জীবিকা হুমকিতে পড়বে। বিশেষ করে গরীব দেশগুলোতে এসব বিপদ মোকাবেলার সক্ষমতা কম বলে তাদের উপর চাপ পড়বে।
পরিবেশে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উত্তর মেরুর জমাট বাধা বরফ এবং হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে সাগরের উচ্চতা। যার ফলে উপকুলের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। সাইবেরিয়ায় মাটিতে জমে থাকা বরফ গলে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে আটকে থাকা মিথেন গ্যাস। যার ফলে এই মিথেন গ্রিনহাউজ গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে গিয়ে বন-জঙ্গলে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাদের চিরচেনা আবহাওয়া বদলে যাওয়ায় অনেক প্রাণী তাদের অনুকূলের কোন নতুন জায়গায় চলে যাবে। অনেকে ইতোমধ্যে চেষ্টা করছে। কিন্তু এতো দ্রুত হারে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে যে অনেক প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। যেমন, পোলার বিয়ার বা উত্তর মেরুর শ্বেত ভালুকের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এছাড়া সাগরের পানি গরম হয়ে যাওয়ায় আটলান্টিক মহাসাগরের স্যামন মাছ যেসব নদীতে ঢুকে ডিম পাড়ে তা বিপন্ন হয়ে যাবে। ট্রপিক্যাল অঞ্চলের কোরাল রিফ বা প্রবাল-প্রাচীর উধাও হয়ে যেতে পারে, কারণ বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড সাগরের পানিতে মিশে পানির অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক কারণে জলবায়ুতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন হয়। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ুর যে পরিবর্তন তা অস্বাভাবিক। যার জন্য আসলে আমরাই দায়ী। মানুষ যখন থেকে কল-কারখানা এবং যানবাহন চালানো শুরু করেছে এবং শীতে ঘর গরম রাখতে তেল, গ্যাস এবং কয়লা পোড়াতে শুরু করেছে সেই সময়ের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা এখন ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে।
বায়ুমণ্ডলে অন্যতম একটি গ্রিন হাউজ গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ উনবিংশ শতকের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।। গত দুই দশকে বেড়েছে ১২ শতাংশ। বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণেও বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বাড়ছে। গাছপালা কার্বন ধরে রাখে। ফলে, সেই গাছ যখন কাটা হয় বা পোড়ানো হয়, সঞ্চিত সেই কার্বন বায়ুমণ্ডলে নিঃসরিত হয়।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিল্প বিপ্লব শুরুর আগে বিশ্বের যে তাপমাত্রা ছিল তার থেকে বৃদ্ধির মাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা গেলে বড় ধরণের বিপদ এড়ানো যাবে। তা না পারলে বিপজ্জনক হয়ে পড়বে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন।
অনেক বিজ্ঞানীর আশঙ্কা যে ভয়ঙ্কর এই পরিণতি ঠেকানোর আর কোনো উপায় নেই এবং চলতি শতকের শেষে গিয়ে বিশ্বের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। তা হলে এর প্রভাবে দেশগুলোকে বলা হচ্ছে তারা যেন বর্তমান শতকের মাঝামাঝি অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে। অর্থাৎ যেটুকু গ্যাস নিঃসরিত হবে তা অতিরিক্ত গাছ লাগানোর মত ব্যবস্থা নিয়ে ভারসাম্য রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশগুলো যদি তা করতে পারে তাহলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির দ্রুত গতি কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর পরিণতি এড়ানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আশার কথা পৃথিবীব্যাপি জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানীরা নানা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ছে। কোনও একটি জায়গায় আবহাওয়ার চরম আচরণ যেমন অতিবৃষ্টি বা অতিরিক্ত গরমের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগাযোগ খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীরা এখন সমর্থ হচ্ছেন।







সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: বরুণ ভৌমিক নয়ন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের, ঢাকা অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮, চট্টগ্রাম অফিস- আবাসিক সম্পাদক: জাহিদুল করিম কচি, নাসিমন ভবন (দ্বিতীয় তলা) ১২১, নূর আহমেদ রোড, চট্টগ্রাম ফোন: ০৩১-২৫৫৭৫৪২ হটলাইন: ০১৭১১-৩০৭১৭১, E-mail : abnews13@gmail.com, Web : www.abnews24bd.com, Developed by i2soft Technology Ltd.
Close